Crop Production Technology
Title Production Technology of Brinjal
Category: vegetables

বেগুনের উৎপাদন প্রযুক্তি:

মাটি
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই বেগুন জন্মে। তবে দোআঁশ, এটেল দোআঁশ ও পলিমাটি  বেগুন উৎপাদনের জন্য বেশী উপযোগী।

বীজ বপন ও চারা রোপন
বীজতলায় চারা তৈরী করে ৫-৬ সপ্তাহ বয়সের চারা ৭৫ সেমি দূরত্বে সারি করে ৬০ সেমি দূরে দূরে লাগাতে হয়। বেগুনের জাতের গাছের আকার অনুযায়ী এ দূরত্ব ১০-১৫ সেমি কম বেশী করা যেতে পারে।

রোপনের সময়
গ্রীষ্মকালীন ফসল মাঘ-ফাল্গুন মাসে ( মধ্য-জানুয়ারি থেকে মধ্য-মার্চ ) , বর্ষাকালীন ফসল বৈশাখ মাসে (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে ) এবং শীতকালীন ফসলের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-অক্টোবর ) মাসে চারা রোপণ করতে হয়।

সারের পরিমান
বেগুনের জমিতে নিম্নরুপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম

সারের পরিমান/ হেক্টর

ইউরিয়া

৩৭০-৩৮০ কেজি

টিএসপি

১৪৫-১৫৫ কেজি

এমপি

২৪০-২৬০ কেজি

গোবর

৮-১২ টন

সার প্রয়োগ পদ্ধতি
অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরীর সময় প্রয়োগ করতে হয়। বাকী অর্ধেক গোবর, সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও এমপি সার পিট তৈরীর সময় প্রয়োগ করতে হয়। বাকী ইউরিয়া ও এমপি সার ৩টি সমান কিস্তিতে রোপণের ২১,৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা
গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জস্য মাঝে মাঝে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হয়। শীতকালীন ও আগাম লাগানো বর্ষাকালীন ফসলের জন্য বেগুনে প্রচুর পানি প্রয়োজন হয়। বেলে মাটিতে ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষাকালীন ও বারমাসি বেগুন ফসলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যা

বেগুনের ঢলে পড়া রোগ:

ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়। গাছের গোড়া ও শিকড় বিবর্ণ হয়ে যায়। এ রোগ হলে পাতা নেতিয়ে পড়ে ও গাছ ঢলে পড়ে। পরবর্তীতে গাছ মারা যায়।

প্রতিকার:

১।  রোগ প্রতিরোধক জাত লাগাতে হবে।

২।  আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে।

৩।  আক্রান্ত জমিতে শস্য পরিক্রমা অনুসরণ করতে হবে।

 

বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা:

-         বেগুনের বোটার নীচে ছোট ছিদ্র দেখা যায়। কচি ডগা ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।

-         আক্রান্ত ফলের ভিতরটা ফাঁপা ও পোকার বিষ্ঠায় পরিপূর্ণ থাকে।

-         উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা পর্যায়ক্রমে অনেকবার বংশ বিস্তার করে থাকে।

দমন ব্যবস্থাপনা:

-         পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল ধ্বংস করা: ফল ধরার আগে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার কীড়া বেগুনের ডগার ভেতরের অংশ খেয়ে বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন উক্ত কীড়া সমেত  আক্রান্ত ডগা কেটে  ধ্বংস করে ফেললে পোকার বংশবৃদ্ধি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

-         সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার: সূক্ষ ছিদ্রসহ প্লাষ্টিকের ছোট টিউবে ফেরোমন ভরে টিউবটি একটি পোকা ধরা ফাঁদে ঝুলিয়ে রাখলে তা ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত পুরুষ মথ আকৃষ্ট করতে পারে, যা পরবর্তীতে সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়।

-         বিষাক্ত কীটনাশকের প্রয়োগ বন্ধ বা সীমিত ব্যবহার: ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার বেশ কয়েকটি দেশীয় পরজীবি ও পরভোজী পোকা রয়েছে। এদের মধ্যে পরজীবি পোকা যেমন- ট্রাথালা ফ্লেভো-অরবিটালিস ও পরভোজী পোকা যেমন- ম্যানটিড, ইয়ারউইগ, পিঁপড়া, লেডি বার্ড বিটল, মাকড়সা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার না করা বেগুনের জমিতে এরা প্রচুর পরিমানে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকাই কেবল ধ্বংস করে না সাথে সাথে অন্যান্য ক্ষতিকারক পোকা যেমন- জ্যাসিড, সাদা মাছি ইত্যাদির সংখ্যা স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

একান্ত প্রয়োজনে কেবলমাত্র পরিমিত মাত্রায় নির্দিষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন রাসায়নিক কীটনাশক অথবা স্থানীয়ভাবে সুপারিশকৃত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

এগুলো ছাড়াও বেগুন ফসলের বিভিন্ন পর্যায়ে অন্যান্য রোগবালাই এর আক্রমন হলে প্রয়োজন মত ব্যবস্থা নিতে হবে।

Source: Krishi Projukti Hatboi(Handbook on Agro-technology), 4th edition, Bangladesh Agricultural Research Institute, Gazipur-1701, Bangladesh.