Crop Production Technology
Title Production Technology of Raddish
Category: vegetables
মুলার উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটিঃ

দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি মুলা চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল। অধিক পরিমাণ বৈজ সার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার ব্যবহার করে অধিকাংশ উঁচু জমির মাটিতে এর চাষ করা যায়।

বীজের হার ও বীজ বপনঃ

আম্বিন থেকে কার্তিক মাস (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য নভেম্বর) মুলার বীজ বপন করা যায়। হেক্টরপ্রতি ২.৫-৩.০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সাধারণত মুলার বীজ ছিটিয়ে বপন করা হয়। কিন্তু বীজ সারিতে বপন করা ভাল। এতে বীজের পরিমাণ কম লাগে এবং পরবর্তী পরিচর্যা করা সহজ হয়।

সার প্রয়োগঃ

মুলার জমিতে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম

সারের পরিমাণ/হেক্টর

ইউরিয়া

৩০০-৩৫০ কেজি

টিএসপি

২৫০-৩০০ কেজি

এমপি

২১৫-২৩৫ কেজি

গোবর

৮-১০ টন


সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর বা কম্পোস্ট সার টিএসপি এবং ইউরিয়া ও এমপি সার ছকে নির্ধারিত মাত্রায় জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি ইউরিয়া ও এমপি সমান অংশে যথাক্রমে বীজ বপনের তৃতীয় ও পঞ্চম সপ্তাহে ২ কিসিত্মতে প্রয়োগ করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যাঃ

বীজ বপনের ৭-১০ দিনের মধ্যে ৩০ সেমি দূরত্বে একটি ভাল গাছ রেখে বাকি গাছ উঠিয়ে ফেলতে হবে। মাটিতে রস কম থাকলে বপনের ৭-১০ দিনের মধ্যেই একটি সেচ দিতে হবে। সাধারণত ২ সপ্তাহ পর পর ২-৩ বার সেচ দিলে মুলার ফলন ভাল হয়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। এজন্য নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।

অন্যান্য প্রযুক্তিঃ

মুলার বীজ উৎপাদনঃ

শীতকালীণ সবজিসমূহের মধ্যে মুলা বাংলাদেশে একটি অন্যতম সবজি। দেশে মুলা উৎপাদনের জন্য বিদেশী বীজের  উপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশে আবাদকৃত বিদেশী মুলার দ্বিবর্ষজীবী এবং স্থানীয় আবহাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে এদের বীজ উৎপাদন হয় না। স্থানীয় আবহাওয়ায় বীজ উৎপাদনে সক্ষম ‘তাসাকিসান মুলা’ এবং বারি মুলা-২ (পিংকী) নামে এক বর্ষজীবী মুলার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

মুলার মূল ও  পাতা কর্তন পদ্ধতিঃ

মুলার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে জমি থেকে সমস্ত মুলা উঠিয়ে জাতের বিশুদ্ধতা, আকৃতি ইত্যাদি বিবেচানা করে বাছাই করতে হবে। বাছাইকৃত মুলার মূলের এক চতুর্থাংশ পাতার দুই তৃতীয়াংশ কেটে ফেলতে হবে। মূলের কাটা অংশ ডায়াথেন এম-৪৫ ( ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে) এর দ্রবণে ডুবিয়ে নিতেহবে। পরে প্রস্ত্তত করা বেডে সারি পদ্ধতিতে (৬০x৪৫ সেমি) মুলা গর্তে স্থাপন করে পাতার নিচ পর্যন্ত মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে পুনরায় রোপণকৃত গাছ থেকে অধিক পরিমাণে বীজ পাওয়া যায়। বীজ ফসলের জমিতে সর্বদা রস থাকতে হবে। গাছে ফুল আসার পর হেক্টরপ্রতি ১০০ কেজি ইউরিয়া ও ১০০ কেজি এমপি সার বেডে ছিটিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রতিকুল আবহাওয়ায় বীজ ফসল যাতে মাটিতে পড়ে না যায় সেজন্য ঠেকনা দিতে হবে। মুলার বীজ ফসলে জাব পোকা দেখা দেওয়া মাত্র পিরিমর/জোলন/নগস/ম্যালাথিয়ন ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। বীজ বপনের পর ৪-৫ মাসের মধ্যেই জীবত সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

বোরন সার প্রয়োগঃ

সুষম সারসহ মুলার জমিতে প্রতি হেক্টরে ১০-১৫ কেজি বরিক এসিড/বোরাক্স প্রয়োগ করে মুলার বীজের ফলন বড়ানো যায়।